ক্যানডিড থিয়েটার নাট্যযাপন ২০২১

শেয়ার করুন

ক্যানডিড থিয়েটার তাদের তিন দিন ব্যাপী বার্ষিক নাটোৎসব ‘নাট্যযাপন ২০২১’ গত ২৮-৩০ অগাস্ট দমদম থিয়েপেক্সে আয়োজন করলো। উৎসবের প্রথম দিন ছিল একটি অনলাইন আলোচনা, বিষয় “সাহিত্য থেকে নাট্য সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা”। রেপ্লিকা অসম নাট্য দলের নির্দেশক রূপজ্যোতি মাহান্তা, সংলাপ কলকাতার পরিচালক কুন্তল মুখোপাধ্যায় ও কোরাপুট নান্দনিকের নির্দেশক সৌরভ গুপ্ত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনায় ছিলেন কলকাতা থিয়েটার গাইডের সম্পাদক তমাল মুখোপাধ্যায়। দ্বিতীয় দিন প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধম্যে উৎসবের শুভ সূচনা করেন বিশিষ্ট্য নাটককার, নির্দেশক প্রবীর গুহ। সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করেন পূজা রায়, রাজীব জানা ও সৌমিক দে।

উৎসবের প্রথম পর্বের সূচনা হলো রবিশঙ্কর বলের কাহিনি নিয়ে সুদীপ্ত ভুঁইয়ার নাট্যরূপে ও প্রিয়ঙ্কর দের নির্দেশনায় ক্যানডিডের নতুন নাট্য “তিমিরের হার্লেম’’। নিজেদের জীবন ও সম্পর্কের অলি গলির সন্ধান, তাদের সার্থকতা, ব্যর্থতা, বৈপরীত্য খোঁজের নানা প্রশ্ন তাড়িয়ে নিয়ে যায় তিমির আর সুতপাকে। সুতপা চরিত্রে চিত্রা সাহা ও তিমিরের ভূমিকায় সুদীপ্ত ভুঁইয়া দক্ষতার সাথে নিজস্ব অভিনয়ের মান বজায় রেখে চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করবার চেষ্টা করেছেন। জীবনানন্দের চরিত্রে স্বপন ধর ও কথকের ভূমিকায় প্রিয়ঙ্কর দের অভিনয় প্রশংসনীয়। নাটকের আবহ বহু জায়গায় দৃশ্য নির্মাণ ব্যাহত করে। দ্বিতীয় নাটক ছিল দুর্গাপুর ভীমরতির পাঁচকান। পাঁচ নারীর জবানবন্দিতে এ নাটকে উঠে আসে তাদের অনুভূতি, চেতনা ও যন্ত্রণার কথা। দীপঙ্কর সেনের নির্দেশনা ও নয়না সেনের দক্ষ অভিনয়ের যুগলবন্দী দর্শকদের মুন্ধ করে।

দ্বিতীয় পর্বের অন্তিম দিনের প্রথম নাটক যাদবপুর মন্থনের প্রযোজনায় অনিক ঘোষের নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “বলাই”। একক অভিনয়ে করেন রাজীব বর্ধন। দ্বিতীয় নাটক ছিল বিভাবন প্রযোজিত ও সুপ্রিয় সমাজদার নির্দেশিত “একটি ডেটের গল্প”। বর্তমান সময়ে মানুষের মাঝে তৈরী হওয়া দূরত্ব ও একাকীত্বের যন্ত্রনা ছিল এ নাটকের মূল বিষয়। উৎসবের শেষ নাটক ছিল ইফটার “ভাঙা সম্পর্কের জাদুঘর”। নির্দেশনা ও অভিনয়ে ছিলেন দেবাশিস দত্ত। সম্মান জানানো হয় ফ্যাক্ট নাট্যদলের নির্দেশক সন্দীপ বসু ও কলকাতা থিয়েটার গাইডের সম্পাদক তমাল মুখোপাধ্যায়কে।

শেয়ার করুন