বিভাবন থিয়েটার আকাদেমি জাতীয় অন্তরঙ্গ নাট্য উৎসব ২০২১

শেয়ার করুন

৯-১২ সেপ্টেম্বর বিভাবন-এর আয়োজনে চার দিন ব্যাপী জাতীয় অন্তরঙ্গ নাট্যোৎসব “ব্রিজ বিটুইন আস” অনুষ্ঠিত হল থিয়েঅ্যাপেক্স। ছিল কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও ওড়িশার মোট সাতটি নাটক। কর্মশালা এবং নাট্য বিষয়ক আলোচনাও ছিলো এই উৎসবের আকর্ষণ। আশিস গোস্বামী, সুবোধ পট্টানায়ক, প্রবীর গুহ, কুন্তল মুখোপাধ্যায় মত বহু বিশিষ্ট্য নাট্য ব্যক্তিত্ব উপস্থিতি ছিলেন এই উৎসবে।

প্রথম দিনে প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের শুভ সূচনা হয়। উদ্বোধন করেন কেরালা লোকধর্মী নাট্যদলের নির্দেশক চন্দ্রদাসন, শোহন নাট্যদলের নির্দেশক অনীশ ঘোষ ও বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ও নাট্য নির্দেশক তথা বিভাবন-এর সভাপতি শেখর দাস। পরিবেশিত হয় বিভাবন নাট্য দলের নাটক “ভালোবাসার গান”। নির্দেশনা সুপ্রিয় সমাজদার। বিজয়া কর্মকার, মানসী কুন্ডু, ঈশান কর্মকার, অনির্বান পৈতন্ডি, শ্রীজিতা সাহা, ভক্ত দাস বাউল, শিবু বাউল, সোমা গিরি ও কাজল হাজরা ছিলেন এই ভিন্নধর্মী প্রযোজনার সহযাত্রী। দ্বিতীয় দিনে মঞ্চস্থ হয় দুটি নাটক। মালদা আগামী নাট্যদলের “এন অড টু নানা-গম্ভীরা”। নির্দেশনা জয়ন্ত বিশ্বাস। মালদা জেলার ঐতিহ্য গম্ভীরাকে এক নতুন রূপে পরিবেশন করেছেন জয়ন্ত। দ্বিতীয় নাটক ছিল মধ্যমগ্রাম নটমন নাট্যদলের “কৃষ্ণকথা”, নির্দেশনা তমাল সেন। একক অভিনয় করেন সঞ্জীব মুখার্জি। ফুলমনি নামক একটি মেয়ের জীবন নিয়ে এই নাটকটি রচিত। অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনের সূচনা হয় থিয়েটার শাইন নাট্যদলের “পোস্টমাস্টার” নাটক দিয়ে। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাদের অতি পরিচিত একটি গল্পকে সম্পূর্ণ এক নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে তুলেছেন নির্দেশক। দ্বিতীয় নাটক ছিল প্রাচ্য নাট্যদলের “বুদ্ধিজীবীর ময়নাতদন্ত”। নির্দেশনায় রাজীব বর্ধন। ব্যক্তির প্রেম, রাজনৈতিক আদর্শ ও বদলে যাওয়া পারিপার্শ্বিক ও সামাজিক দর্শনের কথা উঠেই আসে এই নাটকে।

চতুর্থ দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় নাট্য কর্মশালা থেকে তৈরি একটি নাটক দিয়ে। উইলিয়াম শেষক্সপিয়ার-এর “টেম্পেস্ট” থেকে চন্দ্র দাসনের পরিচালনাতে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা উপস্থাপিত করেন “ক্যালিবান কথা- এ ট্রেইলার”। অভিনয় শেষে সবাইকে শংসাপত্র প্রদান করা হয়। তার পর শুরু হয় নাট্য আলোচনা, বিষয় “রেলিভেন্স অফ ইন্টিমেট থিয়েটার”। বক্তা ছিলেন চন্দ্র দাসন, দক্ষা শর্মা, দেবাশীষ দত্ত, অলোকপর্ণা গুহ, কৃতি মজুমদার এবং পরিচালনায় ছিলেন তমাল মুখোপাধ্যায়। অন্তরঙ্গ নাটকের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তারা তাদের ভাবনা তুলে ধরেন। চতুর্থ দিনের প্রথম নাটক বিভাবন নাট্য দলের “একটি ডেটের গল্প”, নির্দেশনা সুপ্রিয় সমাজদার। এই সময়ে আমরা নিজেকে কিভাবে খুঁজে নিতে চাইছি, যা করছি সবটাই কি বাইরে থেকে নাকি ভেতরেও কিছু আছে। এই রকম নানা প্রশ্ন-উত্তরের খোঁজ রয়েছে এই নাট্যে। দ্বিতীয় নাটক ওড়িষা উৎসব নাট্যদলের “উইকেন্ড”, নির্দেশনা দক্ষা শর্মা। দক্ষা, এক অনিশ্চিত জীবনের কথা তুলে ধরেন তার একক অভিনয়। এই দুটি নাটকের উপস্থাপনার মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি ঘটে বিভাবন আয়োজিত জাতীয় অন্তরঙ্গ নাট্যোৎসবের।

শেয়ার করুন