অমল আলো প্রথম বর্ষপূর্তি উৎসব ২০২১

শেয়ার করুন

মহারির প্রতিকূলতা পেরিয়ে যেই সকল নাট্যদলেরা তাদের চর্চা অব্যাহত রাখতে গড়ে তুলেছেন আপন প্রেক্ষাগৃহ, অশোকনগর নাট্যমুখের তাদের মধ্যে এক উজ্জ্বল উদাহরণ। অমলেন্দু চক্রবর্তীর নামে নামাঙ্কিত ‘অমল আলো’ আজ দেখতে দেখতে এক বছর সম্পূর্ণ করলো। বিগত এক বছরে এই স্পেসে প্রদর্শিত হয়েছে শতাধিক বেশি নাটক, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও নান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বহু নাট্যদল তাদের নাটক তৈরী করেছেন এখানে। অমল আলোর প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজিত হলো ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর ২০২১। এই আয়োজনে নাটক ছাড়াও ছিল থিয়েটারি আড্ডা ও সম্মাননা।

বাংলা থিয়েটারের পাঁচ অভিনেত্রী যোগমায়া বসু, রোনিয়া রায়, জয়িতা চৌধুরি, সোমা দাস ও সঞ্জিতা মুখোপাধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক ড. মনোজ ঘোষ, অভিনেত্রী ঝুনু দে নাগ, কবি সোমা মুখোপাধ্যায়, পোশাক পরিকল্পক রিক্তা দাস বিশিষ্ট নৃত্য শিল্পী মোম বিশ্বাস এবং ডায়না বিশ্বাস। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সৌমেন্দু হালদার ও ঝুমুর ঘোষ। সহযোগিতায় ছিলেন অর্পিতা, তনুশ্রী, শ্রেয়া, তানিয়া, দেবাদ্রিতা, অঞ্জন, গৌতম, ডঙ্কু, রুমকি, অদ্রীশ। তত্ত্বাবধানে সমীর ভট্টাচার্য। উৎসব কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন অসীম দাস ও অরূপ গোস্বামী।

পাঁচ দিনের এই উৎসবে মোট ১০টা নাট্যদল তাদের প্রযোজনা নিয়ে হাজির ছিলেন। প্রদর্শিত হল – শ্যামবাজার নাট্যচর্চা কেন্দ্রের ‘টেলিস্কোপ’, দৃশ্যান্তনের ‘ভোমর’, বারাসাত জনস্বরের ‘হিজিবিজি প্রাইভেট লিমিটেড’, স্টেজ দ্য ক্রিয়েটিভ ওয়ার্ল্ড-এর ‘রাক্ষস’, হাতিবাগান শিল্পীচক্রের ‛জীবিত ভিক্ষুক, মৃত কুকুর’, জোড়াসাঁকো প্যাঁচার নাট্যদলে ‘অবিনাশ গাঙ্গুলি ও সেই লোকটি’, ঢাকুরিয়া নাট্যমুখের ‘অন্ধকারে দিন-রাত্রি’, গোত্রহীন (দমদম) এর ‘খোল দো’, মধ্যমগ্রাম নটমনের ‘কৃষ্ণকথা’ ও বারাসাত থিয়েটার জোনের ‘ঘাসফুলের কবি’। পাঁচ দিনে পাঁচটি নাট্য পত্রিকাকে সন্মান জানানো হয় এই মঞ্চ থেকে, গ্রুপ থিয়েটার পত্রিকা, মূকাভিনয়, নাট্যসৃজন, ভাবনা থিয়েটার ও থিয়েটারি মাসকাবারি।

উৎসবের তৃতীয় দিনে অমল আলো পরিদর্শন করলেন অশোকনগর প্রশাসনের বিধায়ক, নারায়ন গোস্বামী ও পৌরসভার উপ মুখ্যপ্রশাসক অতীশ সরকার মহাশয়। বহু গুণী নাট্যজনের উপস্থিতি ও নাট্যপ্রেমী মানুষের সমাগমে সম্পূর্ণ হল এই নাট্যউৎসব।

শেয়ার করুন