মীরজাফর – ইতিহাসের বিনির্মাণ

পলাশীর যুদ্ধ ও বক্সারের যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে কালের যে এপিকধর্মীতা আছে, এই নাটক সেই মহাকাব্যিকতারই বিনির্মাণ। তাই এটিকে ঐতিহাসিক নাটক না বলে ইতিহাস আশ্রিত নাটক বলাই ভালো

১৭৫৭, ২৩শে জুন। বাংলার ইতিহাসে যা পরিচিত ‘পলাশীর যুদ্ধ’ হিসেবে। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদৌল্লার পরাজয়, ঔপনিবেশিক শক্তির অভ্যুত্থানের সূচনাপর্ব- এই ঐতিহাসিক ঘটনা বাংলা উপন্যাস, নাটকে একাধিকবার উঠে এলেও পলাশীর যুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে বক্সারের যুদ্ধ পর্যন্ত বাংলার সামগ্রিক ছবি বাংলা নাটকে তেমন উঠে আসেনি। ‘কালিন্দী ব্রাত্যজন’-এর সাম্প্রতিক প্রযোজনা ‘মীরজাফর’ নাটকে উঠে আসছে ১৭৫৭ থেকে ১৭৬৪ পর্যন্ত সেই বাংলার ছবিটিই, যার মধ্যে মুসলিম সাম্রাজ্যের অবসান ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ধরা হয়েছে বৃহৎবঙ্গের সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চালচিত্রটিও। যুদ্ধের পাশাপাশি সময়ের অসহায়তা, স্থূলতা, হাস্যরসাত্মক উপাদান, নিষ্ঠুরতা, হিংস্রতা  প্রভৃতি এখানে ব্যক্ত হয়েছে ঐতিহাসিক চরিত্রের দ্বন্দ্ব ও আচরণের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায়। এ নাটকের রচনা ব্রাত্য বসুর। স্বয়ং তাঁর কথায়, “পলাশীর যুদ্ধ ও বক্সারের যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে কালের যে এপিকধর্মীতা আছে, এই নাটক সেই মহাকাব্যিকতারই বিনির্মাণ। তাই এটিকে ঐতিহাসিক নাটক না বলে ইতিহাস আশ্রিত নাটক বলাই ভালো।” এই থিয়েটারে ইতিহাসের তথ্যগত অনুকৃতি থাকলেও তা কোথাও সৃজকের কল্পনা, চিন্তা ও সীমাবদ্ধতাকে প্রাধান্য দিয়েই নির্মিত। নাটকের নাম ‘মীরজাফর’। সুতরাং বোঝাই যায় এখানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রটি তারই। পাশাপাশি উঠে এসেছে মীরন, মীরকাসেম, উমিচাঁদ, ক্লাইভ, সিরাজের বিধবা বেগম লুৎফান্নিসা প্রমুখ চরিত্রেরা।

এই চরিত্রটি একই সঙ্গে ফারসী, উর্দুতে কথা বলে, আবার শুদ্ধ বাংলাতেও কথা বলে। ফলে, এই দু’রকমের ভাষাতে যিনি কথা বলেন, তাঁর সেই সত্তাকে জীবন্ত করার জন্য যে অভিনয়, তা আমার কাছে বিরাট চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে

এই নাটকে মীরজাফর চরিত্রে অভিনয় করছেন গৌতম হালদার। তাঁর কাছে এই নাটক – সময় ও সম্পর্কের ওপর লিখে দেওয়া কমেন্ট। এমনকী, তিনি এও জানিয়েছেন যে এই নাটকের মধ্যে উল্লিখিত সময়ের ভাষ্য কোথাও গিয়ে শেষপর্যন্ত মিলে যায় সমকালের সঙ্গেই। পাশাপাশি মীরজাফর চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, “এই চরিত্রটি একই সঙ্গে ফারসী, উর্দুতে কথা বলে, আবার শুদ্ধ বাংলাতেও কথা বলে। ফলে, এই দু’রকমের ভাষাতে যিনি কথা বলেন, তাঁর সেই সত্তাকে জীবন্ত করার জন্য যে অভিনয়, তা আমার কাছে বিরাট চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে।” নাটকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মীরনের ভূমিকায় অভিনয় করছেন কাঞ্চন মল্লিক। কাঞ্চন জানান, এই নাটক ইতিহাসের অবহেলিত সময়ের এক জীবন্ত দলিল। লুৎফান্নিসা চরিত্রের অভিনয়ে রয়েছেন পৌলমী বসু, উমিচাঁদ চরিত্রে সুমন্ত রায় এবং অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন কালিন্দী ব্রাত্যজনের সদস্যরা। নাটক রচনা ও নির্দেশনার পাশাপাশি লর্ড ক্লাইভ চরিত্রে অভিনয়ও করতে দেখা যাবে ব্রাত্য বসুকে।

নাটক রচনা ও নির্দেশনার পাশাপাশি লর্ড ক্লাইভ চরিত্রে অভিনয়ও করতে দেখা যাবে ব্রাত্য বসুকে। মীরজাফর চরিত্রে অভিনয় করছেন গৌতম হালদার। মীরনের ভূমিকায় অভিনয় করছেন কাঞ্চন মল্লিক। লুৎফান্নিসা চরিত্রের অভিনয়ে রয়েছেন পৌলমী বসু।

এই নাটকের মঞ্চভাবনা পার্থ মজুমদারের। মঞ্চ নির্মাণে ডি’ময়। আলোক পরিকল্পনায় দীনেশ পোদ্দার। আবহ করেছেন দিশারী চক্রবর্তী, রূপসজ্জায় রয়েছেন মহঃ আলী। নাটকে গানের কথা ও সুর বেঁধেছেন শুভদীপ গুহ। কোরিওগ্রাফি সুমিত কুমার রায়ের।

২৩শে সেপ্টেম্বর জি.ডি.বিড়লা সভাঘরে “মীরজাফর”এর প্রথম অভিনয়। ২৫শে সেপ্টেম্বর আকাদেমি, ৭ই অক্টোবর গিরিশ মঞ্চ ও ১১ই অক্টোবর আবার আকাদেমি মঞ্চে সন্ধ্যে ৬.৩০টায় অভিনীত হবে এই থিয়েটার।