নাট্যমুখ উনিশে পা ব্রাত্য বসুর নতুন নাটক

অভি, ব্রাত্য দা আর তারা…

প্রাউনিশ বছর আগে কোনো এক রবীন্দ্রজয়ন্তীর সন্ধে, কলকাতা থেকে কিছুটা দূরে এক শহরতলির বাঁকে কবিপ্রণাম অনুষ্ঠানের পর কয়েকজনের মিলিত প্রয়াসে মঞ্চস্থ হয়েছিল নাটক “খ্যাতির বিড়ম্বনা”। তারপর সেই আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে, গুটিকয় বন্ধুর উদ্যোগে শুরু হয়েছিল নাট্যদলের ভাবনা, কষ্ট করে স্পষ্ট বলে থিয়েটার চালিয়ে যাবার সংকল্প। নভেন্দু সেনের “মল্লভূমি” নাটক দিয়ে যাত্রা শুরু করে সেই মফস্বলের দলটি তারপর বহু সময়, বহু ঝড় ঝাপট পেরিয়ে আজ বাংলা থিয়েটারে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে ‘অশোকনগর নাট্যমুখ’। রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, আবুল বাশার থেকে রবিশঙ্কর বল প্রমুখ সাহিত্যিকদের গল্পে নাট্যরূপ দিয়ে যেমন কাজ করেছে এই দলটি, তেমনই কখনো বেছে নিয়েছে শম্ভু মিত্র বা মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের মৌলিক নাটক। পয়লা সেপ্টেম্বর ‘অশোকনগর নাট্যমুখ’ তাদের জন্মদিনে মিনার্ভা থিয়েটারে সন্ধে সাড়ে ছ’টায় উপস্থাপন করতে চলেছে তাদের আগামি ও নতুন প্রযোজনা, ব্রাত্য বসুর নাটক “আমি,অনুকূল দা আর ওরা”।

পাঁচটি মুখ্য চরিত্র,তাদের বাতিল হয়ে যাওয়া, থমকে যাওয়া অথবা কোমায় চলে যাওয়া স্বপ্ন সম্পর্কের টানাপোড়নকে মঞ্চে নিয়ে আসছে এই নাটক। নাটককার ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন গতবছর জুন মাসে এই নাটকের ভাবনা তাঁর মাথায় হঠাৎ আসে। তারপর তিনি যেন দেখতে পান পুরো গল্পটা। এক রহস্যের ঘোর থেকেই এ নাটকটি তাঁর লিখে ফেলা। আর সেই নাটককে মঞ্চের দৃশ্যে বেঁধেছেন নির্দেশক অভি চক্রবর্তী। অভি জানিয়েছেন, “আমি,অনুকূল দা আর ওরা” জীবন সংলাপের কাব্য। সুদীপ সান্যালের আলোক পরিকল্পনা, দিশারী চক্রবর্তীর সংগীত ভাবনা, অলোক দেবনাথের রূপসজ্জা এই নাটকের উপযুক্ত মঞ্চ ভাষা নির্মাণে সহায়ক হয়েছে। মঞ্চ ভাবনায় সৌমিক চক্রবর্তী। অভিনয়ে রয়েছেন সুমন্ত রায়,ঋষভ বসু, সন্দীপন চ্যাটার্জী, শুভ্রজিৎ দে, অভীপ্সা ঘোষ এবং সংগীতা চক্রবর্তী। অভিকে নির্দেশনার কাজে সাহায্য করেছেন অরূপ গোস্বামী এবং জয় চক্রবর্তী।