কালের দর্পণে সময়ের প্রতিবিম্ব

ফিরে দেখা – চতুষ্পাপ

ইতিহাসকে কেন্দ্র করে সমকালীন সংকটের কাহিনি নির্মাণ – সারা পৃথিবীর নাট্যইতিহাসে এ এক প্রাচীন ও সুপরিচিত ধারা। কখনো সমাজনীতি, কখনো চরিত্রের দ্বন্দ্বের, কখনো সময়ের স্বর…. ঐতিহাসিকতায় যাবতীয় কিছু মুড়ে ইতিহাস-আশ্রিত নাটক বাংলায় অতীতে ও সাম্প্রতিক -কালে যথেষ্ট হয়েছে এবং হচ্ছেও। সেই সঙ্গেই এই ধরনের নাটকে আরও একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। সেটি হল, বর্তমান সময়ের রাজনীতি, ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থান, রাজনীতি ও ব্যক্তির চিরন্তন বিরোধ, ক্ষমতায়ন ও ক্ষমতা পরিবর্তনের অনিবার্য ফল – এই সবই চিত্রিত করা অতীতের কোনো রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষিতে। ‘রঙ্গপট’ এর সাম্প্রতিক প্রযোজনা ‘চতুষ্পাপ’ যেন এ সমস্ত বৈশিষ্ট্যকেই তুলে ধরেছে চূড়ান্তভাবে। তাই, এই নাটক যতটা ঐতিহাসিক, তার চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক। নাটকটির রচনা চন্দন সেনের, নির্দেশনায় তপনজ্যোতি।

‘রঙ্গপট’ সম্প্রতি নাট্য উপস্থাপনার বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছে ইতিহাসকে। ‘তথাগত’, ‘ধর্মাশোক’ এর পর ‘চতুষ্পাপ’। যেহেতু এ নাটক ইতিহাসকেন্দ্রিক, তাই নাট্য ঘটনার সময়কাল খ্রীস্টীয় ত্রয়োদশ শতক। লক্ষ্মণ সেনের শাসনকালের শেষ পর্যায় ও তুর্কী আক্রমণের প্রাকলগ্নে অর্থ্যাৎ বাংলার শেষ হিন্দু স্বাধীন রাজা ও ইসলামী শাসনের সন্ধিমুহূর্তের বাংলার ছবি ফুটে ওঠে নাটকের কাহিনিতে। নাটক শুরু হয় মাঝি-মাল্লার গানে। বাংলার সাধারণ মাঝি-মাল্লা, যারা জানেই না তাদের রাজা আসলে কে। যাদের কাছে সিংহাসনের পালাবদলের ঘটনাটিও অজানা। কবি জয়দেব ও তাঁর স্ত্রী পদ্মাবতী সেই সমস্ত ডোম্বিনি, মাঝিদের রাজার গল্প শোনান, শোনান কীভাবে আর কেন বদলে গেল বাংলার রাজনীতি, কোন কারণে ক্ষমতা ও সিংহাসন হল হস্তান্তরিত। শুরু হয় ফ্ল্যাশব্যাক। নদী, নৌকো, গান সব কিছু বদলে যায় রাজ অন্দরমহলে, রাজনীতি আর শাসনযন্ত্রের গল্পে। দেখা যায় সিংহাসনে আরোহী বৃদ্ধ রাজা লক্ষ্মণ সেন, আর তাকে ঘিরে চলে পার্ষদদের নির্লজ্জ চাটুকারীতা। দেশে প্রবল অচলাবস্থা, তবু উমাপতি ধর’এর কাব্য পঙতি জুড়ে কেবলই রাজার বন্দনা গান, রাজ্যের প্রকৃত সত্য গোপন করে বর্ণিত হয় মিথ্যে জৌলুস। বৃদ্ধ লক্ষ্মণ সেন এই ছলনাকে বোঝেন, তাই তিনিও নির্দ্ধিধায় বলেন ‘আমি জানি উমাপতি ধর, যবনেরা এদেশ দখল করে নিলেও আপনার মতো কবিরা তাঁদেরই স্ত্ততি গান করবেন, ঠিক এইভাবেই!’ রাজা সব বোঝেন, কিন্তু তিনি নিরুপায়। যার মূল কারণ সিংহাসনের লোভ, ক্ষমতার প্রতি অমোঘ আর্কষণ। আর এরই মাঝে বদলে যায় নাটকের ঘটনা। রাজার শ্যালক কুমার দত্ত সুবর্ণ বণিক চারুদত্তের কন্যা মাধবীকে ধর্ষণ করার অপরাধে শাস্তি পান। কিন্তু প্রধান অমাত্য হলায়ুধ মিশ্র গ্রেপ্তার ও বন্দী করেন মাধবীকেই। এক নীচ জাতির কন্যা অভিযোগ করার সাহস রাখেন শাসক শ্রেণীর ব্যক্তির বিরুদ্ধে – এটাই হয়ে ওঠে মাধবীর প্রধান অপরাধ। রাজার সম্মুখে বন্দী মাধবীকে আনা হয়। রাজা তাঁকে মুক্তি দিতে চান, কিন্তু প্রধান অমাত্য হলায়ুধ এই মুক্তিকে বানিয়ে তোলেন শর্তসাপেক্ষ। বন্দী চারুদত্তের উপর আরোপিত দেশদ্রোহীতার অভিযোগ তুলে নিয়ে তাঁকে মুক্ত করার জন্য কন্যা মাধবীকে হতে হবে দেবদাসী – এই ছিল হলায়ুধের শর্ত। অসহায় মাধবী তা মেনে নেন নিরুপায়ভাবে, নিরুপায় হয়ে এই শর্তকেও স্বীকার করেন রাজা লক্ষ্মণ সেন। কারণ রাজা জানেন, ‘ক্ষেত্রবিশেষে রাজার পদ আর পাপ সমার্থক হয়ে ওঠে। তখন সিংহাসনের চার খুঁটি মানে চতুষ্পাপ’।

কারণ রাজা জানেন, ‘ক্ষেত্রবিশেষে রাজার পদ আর পাপ সমার্থক হয়ে ওঠে’

নিরুপায় হয়ে এই শর্তকেও স্বীকার করেন রাজা লক্ষ্মণ সেন। কারণ রাজা জানেন, ‘ক্ষেত্রবিশেষে রাজার পদ আর পাপ সমার্থক হয়ে ওঠে। তখন সিংহাসনের চার খুঁটি মানে চতুষ্পাপ’। আর তারপরই বদলে যায় নাটকের দৃশ্য, নাটকের ঘটনা। অনাবৃষ্টি, শস্যের অভাব, রাজ্যের অচলাবস্থা কাটাতে লক্ষণ সেনের নামে হলায়ুধ মিশ্র রাজ্যবাসীর জন্য চালু করেন হরেক উৎসব, পল্লীতে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় সুরা, স্বল্পমূল্যের বিনিময়ে গণিকালয়ে যাবার সুবিধা। আর তারই পাশাপাশি রাজনর্তকী শশীকলার কাছে চলতে থাকে মাধবীর দেবদাসী হওয়ার তালিম। বদলে যায় মাধবী, দেবদাসী রসমঞ্জরীতে। কিন্তু রাজ্যবাসীর প্রতি রাজতন্ত্রের শাসনের নামে এ হেন শোষণ বাড়াতে থাকে প্রতিশোধের আগুন। যে আগুনে পুড়তে পুড়তে শশীকলা ও মাধবী হাজির হন সুলতান বক্তিয়ার শাহ-এর কাছে। এই ভিনদেশি তুর্কীকে তাঁরা অনুরোধ করে বাংলা তথা লক্ষ্মণাবতী দখল নেবার জন্য। তাঁরা চান সেন সাম্রাজ্যের পতন, রাজ্য ও রাজ্যবাসীর কল্যাণে আগে সাম্রাজ্যের উৎখাত। আর নতুন সিংহাসনের লোভে চকচক করে বক্তিয়ার খিলজির চোখ। সে বলে ‘কোন বিদেশী শালা একটা দেশ দখল লিতে পারে, যদি সেই দেশের মানুষ জেগে থাকে? কোন দেশের মানুষ শালা বেশিক্ষণ জাগতে পারে, যদি সেই মানুষদের লুভ আর আসক্তির লেশায় ঘুম পাড়ানো যায়? কুনো দেশ দখল হয় না রে – দেশটাকে ভিতর থেকে দখল করতি দেয়া হয়! দখল লিতে ডাকছো? যাব গ। জরুর দখল লিব’। তারপরই উঠে আসে ইতিহাসের সেই অমোঘ ঘটনা। পরিবর্তন – ধর্মের, ক্ষমতা, অধিকার আর সিংহাসনের। মাধবী তার প্রতিশোধ মেটায়, রাজ্যবাসী মুক্ত হয় সেন সাম্রাজ্যের অপশাসন থেকে। পালিয়ে যান রাজা লক্ষ্মণ সেন, আর বৃদ্ধ অমাত্য হলায়ুধ মিশ্র মৃত্যুর আগে বলে যান ক্ষমতার কথা – ‘ক্ষমতা আমাকে ব্যবহার করেছে। ক্ষমতাই চতুষ্পাপ-সিংহাসনের চতুর্পদ’।

এতো গেল নাটকের ঘটনা। আর সেই ঘটনাকে নাট্যে উপস্থাপনার ক্ষেত্রে চরম মুন্সিয়ানার স্বাক্ষর রেখেছেন নির্দেশক তপনজ্যোতি। দর্শক প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশ করেই দেখেন মঞ্চের পর্দা খোলা। আর নৌকা বেয়ে চলেছেন একদল মাঝি। যেহেতু এ নাটক সময়ের প্রবাহ মানতার কথা বলে, তাই শুরু থেকেই কোথাও সেই প্রবাহের সুরটিকে বুনেছেন পরিচালক। আবার ঘটনাবিশেষে সেটের পাশে, পিছনে, প্রান্তে চরিত্রের বসা, হাঁটা, দাঁড়ানোয় তৈরী হয়ে যায় ভিন্ন ভিন্ন ছবি। তাই লম্বা রস্ট্রার্ম-ই কখনো হয়ে যায় নৌকা, কখনো পথ, কখনোবা রাজসভা। তাছাড়া একটি দৃশ্যে মঞ্চের দুটি আলাদা জোনে কৃষক বধূদের গান ও রাজসভায় নর্তকীর নৃত্যে রাজমনোরঞ্জনের চিত্রায়ণে পরিচালক ফুটিয়ে তুলেছেন তৎকালীন ভিন্ন আনন্দের পৃথকীকরণটিকে। যা আসলে নাটকের মূল সুরকে কোথাও ব্যঞ্জিত করে চূড়ান্তভাবে। সেইসঙ্গে প্রজাদের উৎসব কিংবা তুর্কী আক্রমণে মার্শাল আর্টের ব্যবহারও এ নাটকে দৃশ্য পরিকল্পনার অভিনব প্রয়োগ। তবে, পরিচালক পুরো নাটকটিকে কিন্তু বাঁধেন নি মঞ্চের উপর। যেহেতু এ নাটক কেবলই ইতিহাসের তথ্যকে বিবৃত করে না, ইতিহাসকে অতিক্রম করে সমকালের ছবিও ফুটে তোলে সমানভাবে, তাই হয়তো পরিচালক মঞ্চের সীমানা পার করে রাজকর্মচারী কিংবা মার্তন্ডকে নামিয়ে আনেন দর্শকের মধ্যে। দর্শক যেন এখানে এক নিমেষে পৌঁছে যান ত্রয়োদশ শতকে। আর কোথাও সেই সময়যানে ভর করেই তাঁরা যেন খুঁজতে থাকেন সমকালকে। এমনকী, নাটকের দ্বিতীয়ার্ধের ঘটনা যেহেতু বাংলার ইতিহাসের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কথা বলে, তাই মধ্যান্তরে আজানের সুর, সূফী সংগীতের ধ্বনি সেই আবহটিকে বুনতে থাকে সাংঘাতিকভাবে। ‘চতুষ্পাপ’- সময়ের নাটক, সময়ই যেন এ নাটকের অন্যতম চরিত্র। আর ইতিহাস থেকে বর্তমানে যেহেতু এই ভাবনার বহতা বহসান, তাই এ নাট্যের চলনটিও নিববিচ্ছিন্ন। সমগ্র উপস্থাপনে এই প্রবাহমানতাটিকে নিপুনভাবে বেঁধে রাখাই এই নাটকে নির্দেশক তপনজ্যোতির সেরা ভাবনা।

আলো ও মঞ্চ – চতুষ্পাপের অন্যতম সম্পদ। আলোক পরিকল্পনায় দীনেশ পোদ্দার। নৌকার পিছনের পর্দায় চাঁদ, চাঁদের ছায়ার কমা-বাড়া দর্শককে মোহিত করে রাখে। সেই সঙ্গে লক্ষণ সেন–এর সিংহাসনের আঁকড়ে ক্ষমতার আস্ফালনের সময় একটি নীল আলোর ব্যবহার সময় ও জীবনের বিষময় পরিস্থিতিকে প্রতীকিভাবে ফুটিয়ে তোলে। তোলে। আবার আলোর মধ্যে দিয়েই কখনো মঞ্চে এসেছে বীভৎসতা। এ নাটকের মঞ্চ সৌমিক-পিয়ালির। নাটকের মূলভাবকে মঞ্চের উপকরণে এত অপূর্ব ভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্প্রতি খুব একটা চোখে গড়ে না। নাটকের কাহিনির প্রয়োজনীয়তা মেনে অধিকাংশ নাটকে মঞ্চসজ্জা আসে, কিন্তু ‘চতুষ্পাপ’-এ মঞ্চভাবনা আসলে নাটককেই উপস্থাপিত করে প্রতীকিভাবে। সংলাপে বারবার এসেছে ক্ষমতার কথা, সিংহাসনের কথা। হলায়ুধ ও লক্ষ্মণ সেনের সংলাপে উঠে এসেছে সিংহাসনের চারটি পদ ও চতুষ্পাপের প্রসঙ্গ; তাই নাটকের সিংহাসনটিও নির্মিত হয়েছে এই ভাবনাকে মাথায় রেখেই। একটি হাঁড়িকাঠ, তাতে রক্ত লেগে আর তারই নীচে রাজার বসার স্থান। সিংহাসন কেন হাঁড়িকাঠ? কার বলি নিতে সে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ? নাকি সিংহাসনই আসলে কালে কালে ক্ষমতা ও রাজনীতিকেই বলি দেয় – দর্শক মনে এই নাটক যেমন প্রশ্নগুলো তুলে দেয়, মঞ্চ ভাবনাও সে প্রশ্নগুলো তুলতে অনুঘটকের কাজ করে।

দর্শক মনে এই নাটক যেমন প্রশ্নগুলো তুলে দেয়, মঞ্চ ভাবনাও সে প্রশ্নগুলো তুলতে অনুঘটকের কাজ করে

‘চতুষ্পাপ’ সংলাপধর্মী নাটক। নাটককার চন্দন সেনের শক্তিশালী স্ক্রিপ্টটি নাটকের গতিকে এমনিই এগিয়ে নিয়ে যায়। নাটকে রাজনীতির কথা এসেছে, এসেছে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কথা, এসেছে ইতিহাসের প্রসঙ্গ। তবু তা তথ্যের ভারে ভারাক্রান্ত নয়। আর নাটকের চলনে জয়দেব ও পদ্মাবতীর গল্প বলা, ফ্ল্যাশব্যাক পদ্ধতির ব্যবহার নাটকটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। আর এসেছে রাজনৈতিক সচেতনতার বার্তা। নাটকের শেষে কবি জয়দেবের সংলাপটি সেই চিরন্তন রাজনৈতিক সত্যকে বলে দেয়। যেখানে জয়দেব বলেন-‘রাষ্ট্র ও সমাজ যখন ভেদবুদ্ধি আচ্ছন্ন, স্তরে উপস্তরে দুর্লঙ্ঘ্য সীমায় বিভাজিত, শাসক চরিত্রও আত্মশক্তিহীন, ধর্ম অসহিষ্ণু, সমাজ জীবন বিলাস লালসা ও যৌনাচারে পীড়িত, শিল্প সাহিত্য লীলাবিলাসে মদির ও রাজার স্তাবকতায় শশব্যস্ত- দেশের ও সমাজের অধোগতির চিত্র তো তখনই সম্পূর্ণ হয়’।

এবার আসা যাক অভিনয় প্রসঙ্গে। প্রথমেই বলতে হয় সেঁজুতি মুখোপাধ্যায়ের কথা। বাংলা মঞ্চের পরিচিত নাম তিনি। ‘মাধবী’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় এ নাটকের সম্পদ। সঞ্জীব সরকার ‘বক্তিয়ার’ চরিত্রটিকে জীবন্ত করেছেন। খল, কূট, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে হলায়ুধের ভূমিকায় তপনজ্যোতির অভিনয় প্রশংসা যোগ্য। এছাড়া শশীকলা চরিত্রে সুকৃতি লহরী ও চারুদত্ত চরিত্রে স্বপনকুমার এর অভিনয়ও দর্শক মনে একটা ট্র্যাজিক অনুভূতি তৈরী করে। জয়দেব চরিত্র রাজীব বর্ধন ও পদ্মাবতীর ভূমিকায় রায়তী বসুর অভিনয় যথাযথ। নাটক অনুযায়ী এই দুটি চরিত্রের খুব বেশি অভিনয়ের জায়গা নেই। তবু, যতটুকু আছে ততটুকুতে এনারা যথেষ্টই ভালো, তবে, রাজশ্যালক কুমারদত্তের ভূমিকায় সুব্রত বিন্দু এর অভিনয় বাকিদের পাশে যথেষ্ট দুর্বল। বিশেষ করে, মদ্যপ অবস্থায় তাঁর রাজসভায় আসার অভিনয়টি আরোপিত ও অতিনাটকীয় মনে হয়েছে।

আর আছে গান। এ নাটকের সঙ্গীত পরিচালনা দেব চৌধুরীর, নাটকে মাঝিমাল্লার গান আছে, আছে কীর্তন, আছে গ্রামের লোকসঙ্গীত। অধিকাংশ গানই পদ্মাবতীর কন্ঠে। মঞ্চে সেই গানগুলি পরিবেশন করেন রায়তী। রায়তীর মঞ্চে গান গাওয়ার সঙ্গে দর্শক কম-বেশি পরিচিত। তাই, তিনি যে গানগুলিতে অন্য মাত্রাযোগ করবেন তা বলাই বাহুল্য। তবে,সাধারণত নাটকে গান আসে ড্রামাটিক রিলিফ হয়ে। কিন্তু এই নাটকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে গানের দীর্ঘ ব্যবহার ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে। আর নাটকের শুরুতেই মাঝি ও ডোম্বিদের সমবেত গানে উঠে এসেছে চর্যাপদের চৌদ্দ নম্বর পদটি। ডোম্বিপাদের লেখা এই পদের আবহে গীটারের ব্যবহার কালানৌচিত্যদোষ ঘটায় বই কী! সময় যখন ত্রয়োদশ শতক, ভাষায় প্রাচীন বাংলার লক্ষণ – সেখানে এ ধরনের আবহ ইতিহাসের বিচ্যুতি যথেষ্টই তৈরী করে। পরিচালক এবং সঙ্গীত পরিচালক দু’জনেই যদি এ বিষয়ে একটু নজর দেন…

পিয়াল ভট্টাচার্য